২৪ বছর পর ভাঙল প্রথা , বন্ধ রাজবাড়ির সিঁদুর খেলা
সিদ্ধার্থ ভট্টাচার্য
(২০২৬)
(২০২৬) কৃষ্ণনগর রাজবাড়ির গৃহকর্তা সৌমীশচন্দ্র রায় প্রয়াত হওয়ার পর সঙ্গে বন্ধ হলো
রাজরাজেশ্বরী সিঁদুর খেলা। গত বছর চব্বিশ ধরে কৃষ্ণনগরবাসী সিঁদুর খেলায় অংশগ্রহণ করতেন। কিন্ত এবার থেকে সেই বিখ্যাত 'সিঁদুর খেলা' হবে না শুনে তাঁরা হতাশ। প্রসঙ্গত মহালয়ের পরে প্রতিপদের দিন থেকে রাজ রাজেশ্বরীর হোম জ্বালানো হয়। রবিবার সেই হোমকুণ্ড জ্বালানো হয়। প্রসঙ্গত একসময় হোমে প্রয়োজন হতো আস্ত একটা চন্দন গাছ। কেজি কেজি ঘি, বেলপাতা, কলা সহ একাধিক হোমের উপাচার। তাতে গোটা এলাকায় সুবাস বয়ে আনত। রবিবার রাজবাড়িতে সেই হোম হলো মানুষের কল্যাণের উদ্দেশ্যে।
রাজবাড়ি সূত্রে জানাযায়, আগের মহারাজাদের মতো মহারাজ ক্ষৌণিশের সময়ও হোমে আস্ত একটা চন্দন গাছ লেগে যেত। এই হোমও জ্বলত টানা ন'দিন। জানাযায়, ক্ষৌণিশচন্দ্র মারা যাওয়ার পর থেকে বেলকাঠে হোম হয়। আজও আগের মতো হোম নেভানো হয় নবমী পুজোর পরে। তবে আগের মতোই সমস্ত নিয়ম রীতি মেনে হোম জ্বালানো হয়। এই হোম নির্বাণে বেলকাঠ, কলা, দধি, ঘি, মিষ্টি লাগে। স্বয়ং ঠাকুরই নেন বলে জানাযায়। মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্রই বঙ্গে প্রথম সর্বসাধারণের মধ্যে দুর্গোৎসবের প্রচলন করেন যা পরবর্তীকালে সর্বজনীন পরিচিতি পায়। তবে মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্রর জন্মগ্রহণের(১৭১০ সালে) আগেই নদিয়া রাজপরিবারে রাজরাজেশ্বরীর পুজোর শুরু হয়েছে। সেক্ষেত্রে রাজবাড়ির রাজরাজেশ্বরীর পুজো চারশো বছরের বেশি সময় ধরে হচ্ছে। ঐতিহ্যবাহী সেই দুর্গাপুজো বা রাজরাজেশ্বরীর পুজোতে সিঁদুর খেলা হবে না। ২০০২ সালে রাজবাড়ির গৃহকর্ত্রী অমৃতা রায় এই সিঁদুর খেলা শুরু করেন। এ বছরের মার্চ মাসে কৃষ্ণনগর রাজবাড়ির গৃহকর্তা সৌমীশচন্দ্র রায় প্রয়াত হন। অমৃতাদেবীর স্বামী সৌমীশচন্দ্র রায়ের মৃত্যুর পর নদিয়া রাজবাড়িতে দুর্গাপুজো হতে চলেছে সেক্ষেত্রে প্রথম। স্বাভাবিক ভাবেই এই পুজো নিয়ে কি বিধি নিষেধ হবে চর্চা ছিল। এক্ষেত্রে বেশ কিছু নিয়ম মেনে রাজরাজেশ্বরী পুজো হবে। এদিন অমৃতা রায় বলেন, 'দশমীতে সিঁন্দুর খেলা হবে না।এটুকু মায়ের কাছে চেয়ে ছিলাম। যখন দিলেন না তখন মেনে নেওয়ায় ভালো।' এর রেশ ধরে তিনি বলেন,' ছেলে বিয়ে করলে নিজের ইচ্ছায় এই প্রথা চালিয়ে যেতে চাইলে চাইবে আমি তো তাকে জোর করতে পারি না।' এ প্রসঙ্গে অমৃতা রায় বলেন ,' এবারের পুজোটা ব্যক্তিক্রম পুজো। আমার হাসব্যান্ড চলে গিয়েছেন। পুজোতে গর্ভগৃহে আমরা প্রবেশ করবো না। পুজো তাঁদের নামেও হবে না। ঠাকুরমশাই ভার নিয়েছেন। বিজয়া দশমীতে ঠাকুরমশাই দেবীকে বরণ করবেন।' তিনি আরও জানান, দেবী প্রতিমার আকারও কিছুটা ছোট করা হয়েছে।' রাজবাড়ির বড় থাম, পুজো মণ্ডপ সহ একাধিক জায়গায় আলোকসজ্জাও কম হতে পারে বলে তিনি জানিয়েছেন। বন্ধ হতে পারে সানাইও। অমৃতা রায় পুজোর আড়ম্বর কমার কথা বললেও পুজোর নিয়মে কোনও বদল ঘটছে না বলে জানান। আগের মতো নিয়ম রীতি নীতি মেনেই পুজো হবে।পুজোর মূল নিয়মকানুন ও মাঙ্গলিক আচার-অনুষ্ঠান আগের মতোই বজায় থাকবে। সেখানে কোন পরিবর্তন হবে না বলে তিনি জানান। তিনি বলেন, আখ, কুমড়ো, কলা বলি হবে।'






0 মন্তব্যসমূহ
Thanks for your comments.