রুম নং ২০১, ©️ অনিন্দিতা

 রুম নং ২০১

অনিন্দিতা



           কালো গ্ৰানাইটে মোড়া মেঝের উপর হেঁটে চলেছে এক নারী ! শাড়ির আঁচল লুটোচ্ছে মাটিতে | হাতে ধরা তীক্ষ্ণ ছুরিকা থেকে টপ টপ করে রক্ত পড়ছে, টাটকা গরম রক্ত ! মানুষের রক্ত ! কালো মেঝেতে গড়াচ্ছে রক্তরেখা ! রমণীর ভ্রূক্ষেপ নেই ! সে হেঁটে চলেছে... হেঁটেই চলেছে একভাবে | কে জানে এভাবেই সে অনন্তকাল হেঁটে চলবে কিনা ? দরজার সামনে গিয়ে সে নারী মুহূর্তকালের জন্য থমকে দাঁড়াল | হাত থেকে খসে পড়ল তীক্ষ্ণ ছুরি ! একবার শুধু পিছনের দিকে মুখ ফেরাল সে....
চমকে উঠে বসল নিখিলেশ | ইজিচেয়ারে বসে পড়তে পড়তে কখন যেন‌ বইটা বুকের উপর উপুড় করে ঘুমিয়ে পড়েছিল | মন্দারমণিতে আসার পর থেকেই বারবার স্বপ্নে ঘুরেফিরে আসে এই নারী ! কে এই নারী ? কেন বারবার সে নিখিলেশের স্বপ্নে ঘুরেফিরে আসে ? হাঁটার ভঙ্গিমাটা যেন বড় বেশি চেনা ! নিখিলেশের চোখ গেল দুধসাদা নরম বিছানার দিকে | গদিওয়ালা নরম বিছানায় কাত হয়ে ঘুমোচ্ছে রেবতী ! মাত্র দু'বছর হল ওদের বিয়ে হয়েছে আর এই দু'বছরে রেবতী বেশ  মুটিয়েছে | অবশ্য রেবতী বিয়ের আগেও বেশ ভারী ভুরি ছিল | মোটাসোটা ভুঁড়িওয়ালা মেয়ে ওর তেমন একটা পছন্দ ছিল না বটে কিন্তু রেবতীকে দেখে মায়ের বড্ড পছন্দ হয়ে গেল | মায়ের পছন্দকে নিখিলেশ অমান্য করতে পারে নি | ফুলশয্যার রাতে রেবতীর মৃদু আপত্তি অগ্রাহ্য করে স্বামীর দাবীতে বউয়ের পোশাকগুলো যখন একে একে গায়ের জোরে টেনে খুলছিল নিখিলেশ তখন রেবতীর ফর্সা নরম মসৃণ ভু্ঁড়ি, আর ভুঁড়ির ভেতর এতবড় গর্তের মত নাভিটা ওর বেশ পছন্দই হয়েছিল | মোটা বউয়ের নরম শরীর আঁচড়ে কামড়ে যে এত মজা পাওয়া যায়... রেবতী জীবনে না এলে নিখিলেশ জানতেই পারত না ! এর আগেও অনেক মেয়েমানুষ ধামসেছে বটে কিন্তু রেবতীর মত মজা নিখিলেশকে কেউ দিতে পারে নি | রেবতী খেতে ভালোবাসে‌ কিনা জানে না নিখিলেশ কিন্তু বউয়ের ভারিক্কি চেহারা ওর পছন্দের | তাই প্রায় উইকেন্ডেই নিজেদের গাড়িতে চেপে নিখিলেশ বউকে নিয়ে ঘুরতে বেরিয়ে পড়ে | নামীদামী রিসর্টে থাকে, এনজয় করে | রিসর্টের রেস্টুরেন্টে রেবতীকে‌ ভরপেট খাওয়ায় | এবার নিখিলেশরা মন্দারমণি এসেছে | মাঝে মাঝেই আসে | এখানকার ইলিশের স্বাদ রেবতীর ভারী পছন্দের ! আজও ডাইনিংয়ে বসে রেবতী একথালা ভাতের সঙ্গে চারপিস ইলিশ ভাপা খেয়েছে | নিখিলেশ পাশে বসে ওর খাওয়ার তদারকি করেছে, বলতে গেলে প্রায় জোর করে খাইয়েছে | সঙ্গে চকোলেট আইসক্রিম | মোটাসোটা না হলে আর রেবতীকে ধামসে মজা কোথায় ! কিন্তু নিখিলেশ নিজের ক্ষেত্রে পরিমিত আহারে বিশ্বাসী, তাই ও প্রতিবারের মতোই এবারেও একপিস....
একথালা ভাত খেয়ে অগোছালো ভাবে ঘুমোচ্ছে রেবতী | স্বচ্ছ রাতপোশাকের ভিতর দিয়ে মেদালো কোমর উঁকি দিচ্ছে | ঘুমের ঘোরে হঠাৎই আলমোড়া ভেঙে সোজা হয়ে শুল | আহা ফর্সা নধর পেট... খেয়েদেয়ে উঁচু হয়ে ফুলে উঠেছে ! নিখিলেশের হঠাৎই বউকে আদর করার ইচ্ছে জাগল | ব্যাকপ্যাক থেকে একটা ইলাস্টিক স্ট্র্যাপ বার করে সে ধীরপায়ে বিছানায় উঠে গেল | দ্রুত হাতে রেবতীর শরীর থেকে স্বচ্ছ রাতপোশাকের আবরণ খুলে ফেলতে লাগল | ঘুমের ঘোরে দু-একবার আপত্তি জানাল, নিখিলেশ রেবতীর সে আপত্তি গ্রাহ্য করল না ! বিয়ে করা বউয়ের আবার আপত্তি ! ব্রা আর প্যান্টি পড়ে রেবতী হোটেলের বিছানায়‌ অসহায়ভাবে শুয়ে আছে, ওর হাত - পাদুটো খাটের সঙ্গে বাঁধা ! অসহ্য শারীরিক যন্ত্রণার বিনিময়ে রেবতী প্রাচুর্য কিনেছে ! 
ইলাস্টিক স্ট্র্যাপ ক্রমশঃ চেপে বসছে রেবতীর নরম ভুঁড়িতে ! যন্ত্রণা হচ্ছে ! নিখিলেশ ক্রমশঃ স্ট্র্যাপটা ছোট করছে... ভুঁড়ি কেটে বসে যাচ্ছে ইলাস্টিক ! মধ্যিখানে স্ট্র্যাপ দুদিকে উঁচু মেদের পাহাড় ! প্রচন্ড কষ্ট হচ্ছে, সহ্য করতে পারছে না রেবতী ! অসহায়ভাবে একবার নিখিলেশের মুখের দিকে তাকাল ! নিখিলেশের চোখেমুখে এক পৈশাচিক আনন্দের ছবি ! বেশ যন্ত্রণা হচ্ছে বল ? এই তো আরেকটু সহ্য কর সোনা ! স্ট্র্যাপটা আরেকটু ছোট করল | খুব বেশি কষ্ট কি আর আমি দি ? রেবতী মুখ দিয়ে একটা যন্ত্রণাসূচক শব্দ বেরিয়ে এল | রেবতীর নাভির চারপাশে ঘুরছে নিখিলেশের মুখ ! কামড়াচ্ছে...আঁচড়াচ্ছে... ফিনকি দিয়ে বেরিয়ে আসছে নোনতা তরল ! জিভ দিয়ে সে তরল চেটে নিচ্ছে নিখিলেশ ! ছুঁচালো নখ বিঁধছে স্তনে ! প্রবল যন্ত্রণায় আরেকবার মৃদু আর্তনাদ বেরিয়ে এল রেবতীর কন্ঠ চিরে ! সঙ্গে সঙ্গে উঠে পড়ল নিখিলেশ | ড্রয়ার থেকে স্কচ টেপটা বের করে এনে রেবতীর ঠোঁটদুটো সিল করে দিয়ে হিসহিসে গলায় নিখিলেশ বলে উঠল আর চিৎকার কর না ডার্লিং... জান তো সেক্সুয়াল প্লেজারের সময় ফালতু চেঁচামেচি আমার পছন্দ নয় ! কখনো ভেবে দেখেছ যদি বরাবরের মত ভল্যুম অফ হয়ে যায় ! কি করবে তখন ? 
কেঁপে উঠল রেবতী ! ফুলশয্যার রাতেই ও টের পেয়েছিল নিখিলেশ পার্ভাটেড ! আঁচড়ে, কামড়ে, খামচে নববধূর ওপর এক পাশবিক অত্যাচার চালিয়েছিল | অষ্টমঙ্গলায় ফিরে গিয়ে রেবতী কাঁদতে কাঁদতে মাকে সব কথা খুলে বলেছিল | কোন লাভ হয়নি | বাড়ির সবাই মানিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিল | বড়লোকরা একটু নাকি ওরকম হয় ! স্বামী বলে কথা ! মেয়েরাই তো বরাবর মানিয়ে নেয় ! এর জন্য কেউ সংসার ছেড়ে আসে নাকি ! এত গয়না, এত এত শাড়ি, কাড়িকাড়ি টাকা.... রেবতীর আর কি চাই ? বাড়ির ফেরার আগে রেবতীর মা ফিসফিস করে বলেছিল ভাগ্যিস আগের পক্ষের বৌটা ম'ল ! পোড়ারমুখী তাই তো তুই সুখ পেলি ! জানিস জামাই আমায় কি দিয়েছে ? তিনভরির গোট চেনটা বার করে দেখিয়েছিল রেবতীর মা | মানিয়ে গুছিয়ে নে... সংসার ছেড়ে বেরিয়ে এলে এ বাড়িতে কিন্তু তোর জায়গা হবে না | কথাটা মনে রাখিস..
মায়ের কথায় প্রচ্ছন্ন হুমকি সুরটা টের পেয়েছিল রেবতী | তখন থেকেই দাঁতে দাঁত চেপে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা মানে মায়ের ভাষায় সুখ উপভোগ করছে রেবতী | মন্দারমণির নামী রিসর্টের বিছানায় শুয়ে আজও নিখিলেশের থেকে সুখই পাচ্ছিল রেবতী ! লিকলিকে চাবুক ওর নরম মাংসল পিঠে রক্তাক্ত কবিতার আঁচড় আঁকছিল ! শুভ্র বিছানায় ঝরে পড়া রক্তের ফোঁটাগুলো এক নিটোল যন্ত্রণার ইতিবৃত্ত রচনা করছিল | পরিতৃপ্ত রমণ শেষে রেবতীর পিঠের ক্ষতে আলতো হাতে মলম লাগাতে লাগাতে নিখিলেশ বলছিল কালও ইলিশ খাবে তো ? দুপুরে রুম সার্ভিসে ফোন করে বলে দেব ওরা যেন কালকের লাঞ্চটা রুমেই সার্ভ করে যায় ! যন্ত্রণায় ছটফট করতে করতে কোনক্রমে ঘাড় নেড়েছিল রেবতী | না শোনা যে নিখিলেশ একেবারেই পছন্দ করে না !
মাত্র দু'বছরের সংসার জীবনে অনেক যন্ত্রণা সহ্য করেছে রেবতী | না করে উপায় কি ? জোর করে খাইয়ে খাইয়ে এখন ওর ওজন একশোর কাছাকাছি | একটু চলতে ফিরতেই হাঁপ ধরে ! খেতে না চাইলেই নিখিলেশের অত্যাচার সহ্য করতে হয় ! ওর ভেতরের অমানুষ জানোয়ারটা বেরিয়ে আসে ! হিসহিসে গলায় বলে ওঠে, কেন রে মাগি ? তুই ডায়েট করছিস  কেন ? রোগা হবি... রোগা ? কেন ? আমাকে বুঝি আর মনে ধরছে না ! নতুন কোন নাগর জুটেছে নাকি ? শোন ভালো করে খাবি, বুঝেছিস ! তুই জানিস না আমার মোটা মেয়ে পছন্দ | তুই যত মোটা হবি তত আমার সেক্সুয়াল প্লেজার বাড়বে ! আমায় তৃপ্তি দিতে না পারলে গলা টিপে একেবারে....কথাটা মাথায় রাখিস !
এই পাশবিক অত্যাচার সহ্য করা ছাড়া রেবতীর কাছে আর কোন উপায় নেই | মা-বাবা ঘরে ফেরত নেবে না স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, কাজেই যন্ত্রণা সহ্য করে বাঁচাই নিয়তি ! লেখাপড়া তেমন একটা জানে না... খাবে কি ? পালাবে ? নিখিলেশের হাত কম লম্বা নয় | ধরতে পারলে প্রাণে মেরে দেবে | সুইসাইড করবে ? বড় অল্প বয়স... মরতে ইচ্ছে হয় না ! যত কষ্টই সহ্য করতে হোক ‌পৃথিবীর রূপ, রস, গন্ধ উপভোগ করতে ইচ্ছে করে | নিজের প্রবৃত্তি চরিতার্থ করে নিখিলেশ মড়ার মত ঘুমোচ্ছে | আস্তে আস্তে রেবতী বিছানার উপর উঠে বসল | তীব্র যন্ত্রণায় মুখ থেকে উঃ বেরিয়ে এল‌ | একবার বাথরুমে যেতে পারলে ভাল হয় ! রেবতী কোনক্রমে টেনেহিঁচড়ে শরীরটাকে বিছানা থেকে তুলল | 
গভীর ঘুমে তলিয়ে গেছে নিখিলেশ | ঘুমের মধ্যে ও আবার দেখতে পাচ্ছে সেই নারী হাতে তীক্ষ্ণ ছুরিকা ধীরপায়ে ওর দিকে এগিয়ে আসছে ! হাওয়ার গতিতে বুকের উপর উঠে বসল সে, হাতের ছুরিটা হৃদয়ে বিদ্ধ হওয়া কেবল মুহূর্তের অপেক্ষা ! ঘুমের মধ্যেই নিখিলেশ আর্তনাদ করে উঠল কে তুমি ? কে ? তোমায় আমি চিনি না | আমায় মারতে চাইছ কেন ? কেন ? কেন ?
নিখিলেশের তীক্ষ্ণ আর্তনাদ শুনে বাথরুমের দরজা খুলে আধভেজা অবস্থায় টাওয়েল জড়িয়ে বেরিয়ে এলো রেবতী ! চোখের সামনে ঘটে চলা দৃশ্যপট দেখে স্থানুবৎ দাঁড়িয়ে পড়ল | নিখিলেশের বুকের উপর ঝুঁকে বসে আছে এক নারী | হাতে তার শাণিত ছুরি... মেয়েটির লক্ষ্য নিখিলেশের হৃৎপিণ্ড | রেবতী মেয়েটার মুখ দেখার চেষ্টা করল কিন্তু এলোচুল ঢেকে রেখেছে সেই মুখ ! মেয়েটা অদ্ভুত হেসে বলল কেন নিখিলেশ... চিনতে পারছ না আমায় ? আজ থেকে ঠিক তিন বছর আগে এই ঘরেই আমায় মেরে ঝুলিয়ে দিয়েছিলে ফ্যানের সঙ্গে ! কত সহজেই এক লোভী ডাক্তারকে টাকা দিয়ে হাত করে আমাকে মেন্টালি সিক প্রমাণ করেছিলে | আমি সেদিন থেকেই এ ঘরে অপেক্ষা করছিলাম ! হুম ! একদম ঠিক ধরেছ, কেবল তোমার জন্য ! সপাসপ চাবুক পড়ছে পিঠে ! নিখিলেশের আর্তনাদে কেঁপে উঠছে রিসর্টের চারদিক ! বোবা আতঙ্কে মূক হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা রেবতীর কানে ভেসে এলো নিখিলেশ বলছে,
তুমি.... তুমি... অদিতি ? অদিতি কেন এমন করছ ? আমি সেদিন রাগের মাথায় তোমায় খুন করে অন্যায় করেছিলাম, আমি স্বীকার করছি | আমি পুলিশের কাছেও সব অপরাধ স্বীকার করে নেব ! তুমি আমাকে বাঁচতে দাও ! প্লিজ ! প্লিজ অদিতি |
বাঁচবি ? তুই আর কতদিন বাঁচতে চাস ? আমায় সেদিন বাঁচতে দিয়েছিলি ? এত মেয়ের সর্বনাশ করেও তোর শান্তি হয় নি... আরো বাঁচবি ? আরো সর্বনাশ করবি ? শরীর বাতাসে ভাসিয়ে হা হা করে ভয়ঙ্কর হাসি হেসে তীক্ষ্ণ ছুরিকার আঘাতে অদিতি নিখিলেশের ও দুটো ছেদন করল | অনেক মেয়ের সর্বনাশ করেছিস তুই ! প্রস্টিটিউট মেয়েদের কি বাঁচার অধিকার থাকতে নেই ? তুই এর আগেও একটা প্রস্টিটিউট মেয়েকে ঘুরতে নিয়ে গিয়ে তীব্র যন্ত্রণা দিয়ে হত্যা করেছিস ! মেয়েটা হাত জোড় করে তোর কাছে প্রাণভিক্ষা চেয়েছিল | আর তোর স্ত্রী রেবতী ? মেয়েটা প্রতিদিন শারীরিক নিগ্রহ সহ্য করে ! নিজের স্ত্রীকে তিলে তিলে হত্যা করছিস, আবার নিজেকে পুরুষ বলে দাবী করিস ? তোকে তোর উপযুক্ত শাস্তি দিলাম | আজ থেকে তুই নপুংসক !
অদিতি আদেশের সুরে রেবতীকে বলল, রিসর্টের ম্যানেজারকে ফোন করে পুলিশকে খবর দিতে বল ! ভালো করে শোন নিখিলেশ যদি তুই পুলিশের কাছে নিজের অপরাধ স্বীকার না করিস তবে আমি আবার আসব | নিজে হাতে তোকে‌ শাস্তি দেব ! মনে রাখিস নিখিলেশ আত্মার মরণ নেই ! 
কাঁপা কাঁপা হাতে রিসেপশনের নম্বর ডায়েল করল রেবতী | ওপাশে‌ কেউ ফোন তুলতেই রেবতী গড়গড়িয়ে বলল রুম নং ২০১ | এখানে একটা দুর্ঘটনা ঘটে গেছে | পুলিশ খবর দিন প্লিজ... তাড়াতাড়ি করবেন | 

অদিতি উঠে দাঁড়াল | আঁচল লুটোচ্ছে মাটিতে | তীক্ষ্ণ  ছুরিকা থেকে টাটকা গরম রক্তের ফোঁটা মাটিতে টপ টপ করে পড়ছে |  ধীর পায়ে অদিতি দরজার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে... 
অদিতি | অদিতি ! কেন এমন করলে ? প্রবল যন্ত্রণায় নিজের কাটা স্থান দুহাতে চেপে ধরে নিখিলেশ আর্তনাদ করে উঠল !
দরজার কাছে গিয়ে মুখ ফেরাল অদিতি ! সে মুখে এক ফোঁটা মাংস নেই ! রেবতী শিউরে উঠল | গলা চিরে চাপা আর্তনাদ বেরিয়ে এল | নিখিলেশ কিন্তু চমকাল না... ভয়ও পেল না | বিছানা থেকে উঠে দাঁড়িয়ে অদিতির দিকে এগিয়ে গেল | ওর শরীরে এখন আর কোন যন্ত্রণা নেই ! 
দরজার সামনে দাঁড়িয়ে খাটের দিকে চোখ ফেরাতেই এক নীল আতঙ্ক গ্রাস করল নিখিলেশকে ! খাটে কে শুয়ে ? কে ও... নিখিলেশ তীব্রগতিতে খাটের কাছে ফিরে এল | একি ? এ তো ওর মৃতদেহ ! হোটেলের খাটের উপর শান্তভাবে শুয়ে আছে ! নিখিলেশ তো মরতে চায়নি ! কি করবে ও... বিলাপ করবে ? কিন্তু কীভাবে ? আত্মার চোখে তো জল আসে না ! নিখিলেশ দেখল খাটের বাজু ধরে রেবতী একদৃষ্টে ওর শবের দিকে চেয়ে রয়েছে | ওর দু'চোখে ফুটে উঠেছে তীব্র ঘৃণা | নিখিলেশ অদিতির দিকে ফিরে দাঁড়াল | দেখল অদিতি ধীরে ধীরে নিজের পুরনো রূপে ফিরে যাচ্ছে | মুখে এক অদ্ভুত রহস্যময় হাসি | সে হাসির মানে এতদিনে বুঝতে পারল নিখিলেশ | ও যেন বলতে চাইছে ভালোবাসতে শেখ ! যন্ত্রণা দিলে ঘৃণাই মেলে... ভেবে দেখ পুরুষের ভূমিকায় তুমি এতদিন কি করেছ ? নিজেকে কেবল পাপের পঙ্কে ডুবিয়ে দিয়েছ !  

অদিতি ধীরে ধীরে দরজার ওপারে মিলিয়ে গেল | আমায়ও সঙ্গে করে নিয়ে চল... নিখিলেশ আর্তনাদ করে উঠল | কেউ সাড়া দিল না ! পুলিশ এল, ডাক্তার এল... দেহ পরীক্ষা করে বলল আকস্মিক উত্তেজনায় হার্ট ফেল করেছে | এই নৃসংশতার পিছনে কোন দুষ্কৃতীর হাত আছে কিনা তা‌ খতিয়ে দেখা হবে বলে পুলিশ রুম সিল করে দিল | আর পোস্টমর্টেম করার জন্য নিখিলেশের বডি পুলিশের হেফাজতেই থাকবে | পোস্টমর্টেম সম্পূর্ণ হলে নিখিলেশের মায়ের হাতে বডি তুলে দেওয়া হবে | মহিলা পুলিশ হাত ধরে রেবতীকে নিয়ে যাচ্ছে | গোটা ঘটনায় রেবতী বোবা হয়ে গেছে | নিখিলেশ আবার আর্তনাদ করল আমায় নিয়ে যাও... কেউ আমাকে এখান থেকে নিয়ে যাও ! কেউ ওর আর্তনাদ শুনতে পেল না | বন্ধ ঘরে একলা নিখিলেশ আপনমনেই বিড়বিড় করতে লাগল... পাপের শাস্তি, পাপের শাস্তি | মুক্তি অলীক স্বপ্ন মাত্র... আজ থেকে হোটেলের ২০১ নং ঘরে নিখিলেশকে দিনরাত্রি বন্দী থাকতে হবে | 

©️ অনিন্দিতা


Post Collected From -  Monkemoner dakbakso - Anindita


Post a Comment

0 Comments

close