" রাত " অভিজিৎ পাঁজা

 রাত  

©অভিজিৎ পাঁজা 



" শালী ঘরে ঢুকতে না ঢুকতেই টাকা চাইছিস! আগে সার্ভিস দে! এতোদিন ধরে ছটফট করছি... বুঝিস না??" 
" না গো বাবু সেই জন্য বলিনি, ছেলে দুটো দুদিন খেতে পায়নি, বড় টার জ্বর। বিছানা নিয়েছে, আজ যদি আগে একটু টাকাটা দাও হারাণ কে পাঠিয়ে ওষুধ আনাবো, এখন তো দোকান গুলো তাড়াতাড়ি বন্ধ করে দিচ্ছে....!" 
" তোদের এই ঝোপ বুঝে কোপ মারার নাটকবাজি রাখতো, সবে দোকান খুলেছে অনেকদিন পর, আজ টাল হয়েছি, ফালতু না হেজিয়ে ব্লাউজ টা খোল। ভাল্লাগছেনা!" 
" মিথ্যে বলছিনে গো বাবু...দাওনা! সারারাত তো থাকছো, সকালে তো দেবেই তা একটু আগেই না হয় দিলে। দেড় মাস কোনো কাস্টমার নেই পেট ভরে খেতে পাইনি গো! ছেলে টার ওষুধ কোত্থেকে কিনি বলো?" 
" শালী নিজে রেন্ডি হয়ে দু দুটো প্যায়দা করেছিস ওদের বাপকে বল ওষুধ আনতে! আজ তো তোর কাছে এসে পুরো ফেঁসে গেলাম দেখছি.. ধুর শালা দাঁড়া মাধুরী কে ফোন করি!" 
" ওদের বাপ কে...আমি তো জানিই না গো বাবু। না বাবু আপনি যাবেন নাকো! আমি ছিটকিনি দিয়ে দিচ্ছি! " 

              কিছুক্ষণ পর দরজায় টোকা.. ভেতরে তখন চম্পার নগ্ন শরীর টা ছিঁড়ে খাচ্ছে মদ্যপ পশুটা। ক্ষণিকের কর্মবিরতি নিয়ে সায়া টা টেনে বুকের কাছে তুলে দাঁত দিয়ে মুখে আটকে জানলার এক পাল্লা খুলে দেখে বুন্দিমাসি দাঁড়িয়ে। মাসি ফিসফিস করে বলে - " জলদি কর রে চম্পা বড়কাটাকে মনে হচ্ছে হাসপাতলে নিয়ে যেতে হবে! নিশ্বাস নিতে পারছেনা, হাঁপাচ্ছে!" 
         চম্পা কিছু বলার আগেই উঁচু খাট টা থেকে আওয়াজ আসে- " এনে দুশো টাকা তোর ঝামেলা মেটা!" 
           ভিখারির মতো চারটে পঞ্চাশ টাকার নোট উঁচু খাট থেকে মেঝেতে নেমে হামাগুড়ি দিয়ে কুড়িয়ে চম্পা হাত বাড়িয়ে বুন্দি মাসির হাতে দেয়। কোনোমতে কান্না চেপে বলে তুমি বড়কে নিয়ে হাসপাতালে যাও আমি কাজ সেরে শিগগিরি আসছি! সারারাত ধরে শরীরটা ছোরকুটে দিয়ে ভোরের আলো ফোঁটার আগে বেরিয়ে যাবার সময় বাবু বাকি আটশো টাকা ছুঁড়ে দেয় চম্পার আঁচড়ানো স্তন গুলোর ওপর। দরজা খুলে বাবুকে বের করে, শালোয়ার কামিজ পরে ব্রায়ের ভেতর টাকার ব্যাগটা ঢুকিয়ে হাসপাতালের উদ্দেশ্যে বেরোতে যাবে হঠাৎ দেখে দরজার সামনে দাঁড়িয়ে তার বড় ছেলে!
"  কি রে তুই...! হাসপাতাল থেকে পালিয়ে এসেছিস নাকি?" 
   
                 বড়কা হেঁসে বলে - " কাল রাতে তোমাকে কতো করে ডাকলাম মা..একবার এসে আমাকে একটু আদর করে দিলেনা? খুব কস্ট হচ্ছিলো গো! "  ছুটে গিয়ে বড়কা কে জড়িয়ে ধরতে গেলে সিঁড়ি থেকে গড়িয়ে পরে জ্ঞান হারায় চম্পা। 
হুঁশ ফেরে, তখন পাশে পুলিশ আর বুন্দিমাসি। মাসির কোলে ছোটকা। কানের কাছে এসে মাসি জানায় বড়কা কে পুলিশ হাসপাতাল থেকে নিয়ে গিয়ে নিমতলায়  পুড়িয়ে দিয়েছে রে চম্পা, বললো এখন নাকি দেহ ফেলে রাখা যাবে না, আমাকে ডেকেছিলো, শুধু মরা মুখটা একবারটি দেখালো বড়টার। 
দুটো চোখ জলে ভিজে যায়, বুক টা ফেটে যায় কষ্টে, হঠাৎ বেজে ওঠে চম্পার মোবাইল ফোন...
অমুক বাবু কলিং..!!
 

Writers Profile - Abhijeet Panja

Source of Post -  ভূতাণ্বেষী

Post a Comment

0 Comments

close