ফাঁসির মঞ্চে দুই তরুণ যুবক , প্রকাশ রায়

          ফাঁসির মঞ্চে দুই তরুণ যুবক

                               প্রকাশ রায়
ব্রজকিশোর চক্রবর্তী
জন্ম:-১৯১৩ - মৃত্যু:- ২৫ অক্টোবর ১৯৩৪
রামকৃষ্ণ রায় 
জন্ম:- ৯ জানুয়ারি ১৯১২ - মৃত্যু:- ২৫ অক্টোবর ১৯৩৪

                 ব্রজকিশোর চক্রবর্তী ও রামকৃষ্ণ রায় ছিলেন ভারতীয় ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের দুজন অন্যতম সংগ্রামী ও শহীদ। তারা গোপন বিপ্লবী দল বেঙ্গল ভলান্টিয়ার্সের কার্যকলাপে অংশগ্রহণ করে মেদিনীপুরের ডিস্ট্রিক্ট ম্যাজিস্ট্রেট বার্জ হত্যা ষড়যন্ত্রে অভিযুক্ত হন। মেদিনীপুর সেন্ট্রাল জেলে এই দুই বিপ্লবী ফাঁসিতে শহীদ হন। যে ৪১ জন বিপ্লবীদের মধ্যে ফাঁসিতে প্রাণ বিসর্জন দিয়েছিলেন, তাদের মধ্যে এই দুই বিপ্লবীর নাম উঠে আসে। চলো শুনে নেওয়া যাক এই দুই বিপ্লবীর জীবনী সংক্ষেপে। 

                 ব্রজকিশোর চক্রবর্তী মেদিনীপুরের বল্লভপুরের বাসিন্দা ছিলেন । ব্রজকিশোরের জন্ম হয় ১৯১৩ সালে। তার পিতার নাম ছিল উপেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী। ব্রজকিশোর ছাত্রাবস্থায় ১৯৩০ সালে আইন অমান্য আন্দোলনে যোগদান করেন। রামকৃষ্ণ রায় মেদিনীপুরের চিরিমাতসাইয়ের বাসিন্দা ছিলেন। রামকৃষ্ণ রায়ের জন্ম হয় ৯ জানুয়ারি ১৯১২ সালে। তার পিতার নাম ছিল কেনারাম রায়। একটা সময়, যখন বিপ্লবীদের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে মেদিনীপুরের ম্যাজিস্ট্রেট বার্জ সাহেব। এবার বার্জ সাহেব কে পৃথিবী থেকে সরাতে না পারলে সমস্যা হয়ে দাঁড়াবে।

                 দিনটি ছিল ২ রা সেপ্টেম্বর ১৯৩৩ সাল। এবার বার্জ সাহেব কে শায়েস্তা করতে বেরিয়ে পড়লেন বিপ্লবীরা।  শ্বেতাঙ্গ ম্যাজিস্ট্রেট বার্জ সাহেব মেদিনীপুর কলেজ মাঠে মোহামেডান স্পোর্টিং-এর বিরুদ্ধে মেদিনীপুর ক্লাবের হয়ে ফুটবল খেলতে নামেন। বিপ্লবীদের মধ্যে দুজন খেলার ছলে বল নিয়ে মাঠে নামেন বিপ্লবী অনাথবন্ধু পাঁজা ও বিপ্লবী মৃগেন্দ্রনাথ দত্ত। মাঠেই দুই বন্ধু বার্জ সাহেবকে আক্রমণ করলে তিনি মারা যান। জোন্স নামে একজন ইংরেজ আহত হন। পুলিস প্রহরী দুজনের উপর পাল্টা গুলি চালায়। এতে তারা দুজন নিহত হন এবং অপর সঙ্গীরা পলায়ন করতে সক্ষম হন।

                 এই আক্রমনে বিপ্লবী অনাথবন্ধু পাঁজা ও বিপ্লবী মৃগেন্দ্রনাথ দত্ত মারা যান। এই ঘটনার পর ব্রজকিশোর চক্রবর্তী, রামকৃষ্ণ রায়, নির্মলজীবন ঘোষ, নন্দদুলাল সিং, কামাখ্যা ঘোষ, সুকুমার সেন, সনাতন রায়ের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের মামলা শুরু হয়। বিচারে ব্রজকিশোর, রামকৃষ্ণ ও নির্মলজীবনের ফাঁসির আদেশ হয়। নন্দদুলাল সিং, কামাখ্যা ঘোষ, সুকুমার সেন এবং সনাতন রায়-এর যাবজ্জীবন দ্বীপান্তরের দণ্ড দেওয়া হয়। 

                 ২৫ শে অক্টোবর ১৯৩৪  সালে ফাঁসির মঞ্চে উঠে গেলেন বাংলার দুই তরুণ যুবক। আজকের এই যুবসমাজ ব্রজকিশোর চক্রবর্তী ও রামকৃষ্ণ রায়কে ভুলে যেতে চলেছেন।

(তথ্যসূত্র সংগৃহীত কপি)

Post a Comment

0 Comments

close