ব্যাট ম্যান এর Quarantine by Partho de

ব্যাট ম্যান এর  Quarantine




চার মাস হয়ে গেল ইস্কুল বন্ধ! ব্রুস ওয়েইনের মনমেজাজ ভাল নেই। কাঁহাতক হাঁড়িমুখো মিসের অনলাইন ক্লাস ভাল লাগে! সেই জীবন বিজ্ঞান, সেই ভূগোল, সেই মরা মানুষের ইতিহাস। অনলাইনে এসে ইস্কুলের মিসেরা রোজ জাবর কেটে যায়। আজকাল আলফ্রেডকে অনলাইন ক্লাসে বসিয়ে সে মুখভার করে বারান্দায় দাঁড়িয়ে থাকে।

চার মাস হয়ে গেল তার প্রিয় বন্ধু ক্লার্ক কেন্ট, আর্থার কারিদের সঙ্গে দেখা নেই। একটুও ভাল্লাগছে না তার। তাছাড়া ইস্কুলের রাইভ্যাল টিমের টনি স্টার্ক, স্টিভ রজার্স, ব্রুস ব্যানার, পিটার পার্কার, থর, নাতাশা রোমানভদেরও খুব মিস করছে ব্রুস। ইস্কুল থাকলে কত মজা হত। ব্যাটা ব্যানারকে ওরা 'মোটা মোটা' বলে ডাকত। পার্কার ছোঁড়া বেশি লাফালাফি করে বলে ওর বন্ধু ক্লার্ক সেই ব্যাটার নাম দিয়েছে 'উচ্চিংড়ে'! বাকিরা অবশ্য ব্যাটাকে মাকড়সাই ডাকে।

বন্ধুদের সঙ্গে মাঝেমধ্যে ভিডিও কলে দেখা হয়, কথা হয় ব্রুস ওয়েইনের। কিন্তু ওর প্রতিদ্বন্দ্বী দলের পান্ডাদুটো টনি আর স্টিভকে খুব মিস করে সে। স্টিভের খুব ডাঁট, সে ব্যাটা নিজেকে 'ক্যাপ্টেন' বলে ডাকে। তবে ওয়েইনের সবচেয়ে বড় শত্তুর হল টনি স্টার্ক। একবার ইস্কুলের মাঠে দুজনের খুব মারপিট হয়েছিল। ব্যাটা টনি তাকে টিটকিরি দিয়ে বলেছিল 'বটগাছের ব্যাটম্যান।' ইস্কুল মাঠের পিছনে যে বুড়ো বটগাছটা আছে সেটার ঝুলন্ত ঝুরি আঁকড়ে সে টনিকে একটা ফ্লাইং কিক ঝেড়েছিল। টনিও ছাড়েনি তাকে, আয়রনম্যান বলে কথা, সেও তার ইস্পাতকঠিন মুষ্টিবদ্ধ হাতে ঘুষি মেরেছিল ওয়েইনকে। সে এক কেলেঙ্কারি কান্ড! কে যেন মারপিটের খবরটা হেডস্যারের কানে তুলে দিয়েছিল। সম্ভবত ওই লাগানিভাঙানি করা নাতাশা মেয়েটাই হবে। ব্যস, হেডস্যার পাক্কা তিনটে ক্লাস টনি স্টার্ক আর ব্রুস ওয়েইনকে তাঁর অফিসের বাইরে নিলডাউন করিয়ে রেখেছিল। সে এক লজ্জার ব্যাপার! নিচুক্লাসে পড়া ক্লিন্ট বার্টন আর লোকি তাকে দেখে মুখ টিপে হাসছিল। যে মোটুরাম ব্যানারকে দেখে সবাই রসিকতা করে সে ব্যাটাও খ্যাকখ্যাক করে হাসছিল। অবশ্য এরই এক ফাঁকে তার প্রিয় বন্ধু ক্লার্ক কেন্ট এসে টিফিনবাক্স থেকে চিঁড়ের পোলাও খাইয়ে গিয়েছিল। তবে হেডস্যার ওদের নিলডাউন করিয়েই ক্ষান্ত হয়নি, দুজনেরই গার্জিয়ান কল করেছিল। ওয়েইনের তো আর বাপ-মা নেই তাই বুড়ো আলফ্রেডকেই আসতে হয়েছিল।

তিন ঘন্টা নিল্ডাউন হয়ে থাকার পর যখন ব্রুস ওয়েইনের হাঁটু টনটন করছিল আর চোখ ছলছল করছিল তখন বয়োবৃদ্ধ আলফ্রেড পেনিওয়ার্থ তার সামনে দাঁড়িয়ে শান্ত গলায় বলেছিল,"এনডিওর, মাস্টার ওয়েইন। টেক ইট। দে উইল হেট ইউ ফর ইট, বাট দ্যাটস দ্য পয়েন্ট অফ 'ব্যাটম্যান', হি ক্যান বী দ্য আউটকাস্ট!"

আজ এই ঘরবন্দী লকডাউনের দিনে ইস্কুলদিনের পুরোনো স্মৃতি মনে পড়ছে। সে তো ইস্কুল যেতে ভালই বাসত, একদিনের জন্যও তো আলফ্রেডকে বলেনি ইস্কুলে যাবে না! তবুও কেন এমন হল? এই করোনাকাল শেষ হয়ে কবে ফের ইস্কুলে যাবে, কবে ফের বন্ধুদের সঙ্গে দস্যিপনা করবে! 

ধুস, একদম ভাল্লাগছে না তার। এই দ্যাখো আবার আকাশ কালো করে বৃষ্টি নামল। আজ খিচুড়ি আর ইলিশমাছ ভাজা হলে জম্পেশ করে খাওয়া যেত। সে হাঁক পাড়ল আলফ্রেড আলফ্রেড… 

(ছবি সৌজন্য- Rathijit Brahma)



Post a Comment

0 Comments

close